NE2 স্ট্র্যাটেজি: ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন স্কেল করার আধুনিক গাইড : ফেসবুক বিজ্ঞাপনের একটি সাধারণ সমস্যা হলো Ad Fatigue এবং অতিরিক্ত Frequency। অর্থাৎ, একই বিজ্ঞাপন বারবার একই মানুষের কাছে পৌঁছানো, যার ফলে রিটার্ন অন অ্যাড স্পেন্ড (ROAS) কমে যায়। এই সমস্যার সমাধান দিতেই ডিজাইন করা হয়েছে NE2 (New, Engaged, Existing) স্ট্র্যাটেজি।
১. NE2 স্ট্র্যাটেজি কী এবং কেন?
NE2 স্ট্র্যাটেজি হলো আপনার পুরো ক্যাম্পেইনকে তিনটি প্রধান অডিয়েন্স ফানেলে বিভক্ত করা। এটি আপনার বিজ্ঞাপনের বাজেটের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং নিশ্চিত করে যে আপনার টাকা সঠিক জায়গায় খরচ হচ্ছে।
-
New (N): এটি আপনার ফানেলের একদম উপরের অংশ। এখানে আপনার টার্গেট থাকে এমন মানুষ যারা আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে কিছুই জানে না (Cold Audience)।
-
Engaged (E): এরা হলো আপনার পেজ ভিজিটর, ভিডিও ভিউয়ার বা যারা আপনার পেজে মেসেজ দিয়েছে কিন্তু এখনো কেনেনি (Warm Audience)।
-
Existing (E): এরা আপনার বর্তমান কাস্টমার। এদের কাছে নতুন পণ্য বা অন্য কোনো সার্ভিস অফার করা (Hot Audience)।
২. ক্যাম্পেইন স্ট্রাকচার এবং সেটআপ
এই স্ট্র্যাটেজির মূল সৌন্দর্য হলো এর গঠন। আপনি একটি সেলস ক্যাম্পেইনের অধীনে তিনটি আলাদা অ্যাড সেট (Ad Set) তৈরি করবেন।
প্রথম অ্যাড সেট: নিউ অডিয়েন্স (Prospecting)
এখানে আপনি ব্রড টার্গেটিং বা ইন্টারেস্ট ব্যবহার করবেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Exclusion। এই অ্যাড সেট থেকে আপনার পুরাতন কাস্টমার এবং যারা ইতিমধ্যে এঙ্গেজড হয়েছে, তাদের বাদ দিতে হবে। এতে ফেসবুক বাধ্য হবে একদম নতুন মানুষের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন নিয়ে যেতে।
দ্বিতীয় অ্যাড সেট: এঙ্গেজড অডিয়েন্স (Retargeting)
যারা আপনার পণ্য দেখেছে কিন্তু দ্বিধায় আছে, তাদের জন্য এই সেট। এখানে ক্রিয়েটিভ হিসেবে কাস্টমার রিভিউ, টেস্টিমোনিয়াল বা ‘কেন আমরা সেরা’—জাতীয় ভিডিও ব্যবহার করুন।
এদেরকে হালকা কোনো অফার (যেমন: ১০% ডিসকাউন্ট বা ফ্রি ডেলিভারি) দিলে কনভার্সন রেট বহুগুণ বেড়ে যায়।
তৃতীয় অ্যাড সেট: এক্সিস্টিং কাস্টমার (Retention)
একজন পুরাতন কাস্টমারকে আবার পণ্য কেনানো, একজন নতুন কাস্টমার খোঁজার চেয়ে ৫ গুণ সাশ্রয়ী। এদের জন্য ক্রস-সেলিং (Cross-selling) পদ্ধতি ব্যবহার করুন। যেমন: কেউ যদি আপনার থেকে মোবাইল ফোন কেনে, তাকে এখন ব্যাক কাভার বা হেডফোনের বিজ্ঞাপন দেখান।
৩. বাজেট ডিস্ট্রিবিউশন ও স্কেলিং
NE2 স্ট্র্যাটেজিতে বাজেট বণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত আপনার মোট বাজেটের ৭০% নিউ অডিয়েন্সের জন্য রাখা উচিত, কারণ এটি আপনার বিজনেসের গ্রোথ নিশ্চিত করে। বাকি ২০% এঙ্গেজড এবং ১০% এক্সিস্টিং কাস্টমারদের জন্য বরাদ্দ করুন।
যখন আপনি স্কেলিং করবেন, তখন হুট করে বাজেট দ্বিগুণ করবেন না। যদি আপনার ক্যাম্পেইন ভালো রেজাল্ট দেয়, তবে প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পর পর ১০-২০% বাজেট বৃদ্ধি করুন। একে বলা হয় Vertical Scaling।
৪. বাংলাদেশী মার্কেটের জন্য টিপস
বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ভিডিও কন্টেন্ট এবং ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট (UGC) সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
NE2 স্ট্র্যাটেজি প্রয়োগ করার সময় প্রতিটি সেগমেন্টের জন্য আলাদা মেসেজিং ব্যবহার করুন।
নিউ অডিয়েন্সের জন্য ‘ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস’ মূলক কন্টেন্ট এবং এঙ্গেজড অডিয়েন্সের জন্য ‘ট্রাস্ট বিল্ডিং’ কন্টেন্ট ব্যবহার করলে বিক্রয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
২০২৬ সালের এই এআই নির্ভর যুগে ফেসবুক অ্যাড থেকে ভালো ফলাফল পেতে হলে প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে চিন্তা করতে হবে।
NE2 স্ট্র্যাটেজি আপনাকে ডাটা-চালিত সিদ্ধান্ত নিতে এবং বাজেট অপচয় কমিয়ে প্রফেশনালভাবে ক্যাম্পেইন স্কেল করতে সাহায্য করবে।
